
যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে দেশটির সোশ্যাল মিডিয়া বার্তাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘পরস্পরবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। তুরস্কের আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাটিক ফোরামে অংশ নিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের টুইট ও মার্কিন নীতি নিয়ে সংশয়
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনঘন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সমালোচনা করেন খাতিবজাদেহ। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন বক্তব্যের অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমেরিকার পক্ষ থেকে অনেক টুইট করা হয়, অনেক কথা বলা হয়। কখনও তা বিভ্রান্তিকর, কখনও পরস্পরবিরোধী।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের এই কথাগুলো কতটা যৌক্তিক বা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিচার করার দায়িত্ব খোদ আমেরিকার জনগণের।
ওয়াশিংটনের চাপের মুখে অনড় তেহরান
যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের মুখে ইরান তার শক্ত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তেহরান কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। তার ভাষায়, ‘ইরানের অবস্থান পরিষ্কার এবং তারা ওয়াশিংটনের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আমরা কী করব, তা একেবারেই স্পষ্ট। আমরা বীরত্বের সঙ্গে দেশকে রক্ষা করব—একটি প্রাচীন সভ্যতা হিসেবে।’
হরমুজ প্রণালি ও সমুদ্র নিরাপত্তা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরান বাধা সৃষ্টি করছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সাঈদ খাতিবজাদেহ। উল্টো তিনি অভিযোগ করেন যে, ইরান যখন সদিচ্ছা নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে এর জন্য শর্ত হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি। খাতিবজাদেহের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের এই শান্তি প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র ‘নষ্ট করার চেষ্টা করছে’।
সূত্র: আল-জাজিরা