
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির আভাস মিললেও তা যেন বালির বাঁধের মতোই নড়বড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনকে তেহরান বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে এই স্থবিরতা ভেঙে ফের রক্তক্ষয়ী লড়াই শুরু হতে পারে।
গালিবাফের হুঁশিয়ারি ও তেহরানের অবস্থান
রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এই কড়া বার্তা দেন গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো পথ না মেলায় গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গালিবাফের এই মন্তব্য পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, ইরান বর্তমান পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি হিসেবে দেখছে না।
ইসরায়েলি বাহিনীতে ‘হাই অ্যালার্ট’
ইরানের এই হুঁশিয়ারির পরপরই ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েল। সম্ভাব্য আকস্মিক হামলা মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিও সামরিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আকাশপথ ও স্থলভাগকেও।
ঘরের ভেতরে চাপে নেতানিয়াহু
সীমান্তে যখন যুদ্ধের ঘনঘটা, তখন ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বাড়ছে প্রচণ্ড জনরোষ। শনিবার রাতে তেল আবিবে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও তদন্তের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় নেতানিয়াহু দেশকে এক অন্তহীন যুদ্ধের গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত রাফায়েল পিনাইনা নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ভেতর থেকে ইসরায়েলি সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট করছেন।"
তদন্তের দাবিতে অনড় নাগরিকরা
বিক্ষোভকারীরা গত বছরের ৭ অক্টোবর এবং তার পরবর্তী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। সমাজকর্মী লি হফম্যান-আজিভ তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, "তিনি সেইসব শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর শুরু করা এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে প্রিয়জন হারিয়েছেন।"
অনেক প্রতিবাদকারীর মতে, লেবানন ও ইরানে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়া ছিল ইসরায়েলের বড় কৌশলগত ভুল। বিক্ষোভকারী হাইম ট্রিভ্যাক্স সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, "নেতানিয়াহু দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা না করে কেবল সম্ভাব্য কারাদণ্ড থেকে নিজেকে বাঁচাতেই যুদ্ধের এই পথ বেছে নিয়েছেন।"
এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি আর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।