
ভারতের লোকসভায় আসন সংখ্যা বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার সরকারি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই বিরোধী শিবিরে ঐক্যের এক নতুন আবহ তৈরি হয়েছে। সংসদের এই নাটকীয় ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি ফোনে কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, লোকসভায় বিতর্কিত বিলটির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়ায় অভিষেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাহুল গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে যখন মাত্র সাত দিন বাকি, ঠিক সেই মুহূর্তে দুই নেতার এই কথোপকথন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র কয়েক দিন আগেই নির্বাচনী জনসভায় তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতেও তৃণমূলের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই বৈরি পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ এই ফোনালাপ দুই দলের শীতল সম্পর্কের বরফ গলানোর বা ভবিষ্যৎ কোনো রণকৌশলের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেলে, যখন লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ ও আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হয়। টানা দুই দিনের দীর্ঘ বিতর্কের পর ভোটাভুটিতে দেখা যায়, প্রস্তাবের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে। উপস্থিত ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে সরকারের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়।
বিরোধীদের প্রধান আপত্তি ছিল, লোকগণনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে আসন পুনর্বিন্যাস এবং সংরক্ষণের এই উদ্যোগ। তাদের দাবি, এতে অনগ্রসর শ্রেণির নারীরা অধিকারবঞ্চিত হতে পারতেন। সংসদে নিজের বক্তব্যেও এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। নিয়ম অনুযায়ী, জনগণনা পরবর্তী নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণের পরেই আসন সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব, কিন্তু সরকার সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এগোতে চেয়েছিল বলে বিরোধীদের অভিযোগ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিলটি পাস হতে না পারা যেমন সংসদে বিরোধী দলগুলোর সংহতিকে প্রমাণ করেছে, তেমনি রাহুল-অভিষেকের এই যোগাযোগ আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে কোনো গোপন সমঝোতা বা কৌশলগত বন্ধুত্বের পথ প্রশস্ত করতে পারে। বিল বাতিলের এই ঘটনা এখন কেবল সংসদীয় বিষয় নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী উত্তাপকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।