
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে ইরান। দীর্ঘ উত্তেজনা ও সীমিত চলাচলের পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথ আবার পুরোপুরি উন্মুক্ত হলো, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে এবং দামে বড় পতন দেখা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সব জাহাজকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত নৌপথ অনুসরণ করতে হবে।
ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধস নামে, যা ১১ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। বিষয়টি দ্রুত বৈশ্বিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দেশটিকে ধন্যবাদ জানান। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরান এইমাত্র ঘোষণা করেছে তাদের প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং চলাচলের জন্য প্রস্তুত। ধন্যবাদ!’
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক বার্তাও দেন। ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এর আগে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে আনে। হিজবুল্লাহ ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় এই যুদ্ধবিরতির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও পড়ে, যার ধারাবাহিকতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থান শিথিল হয়। আগে সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় সীমিত হয়ে পড়েছিল।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতার আশা তৈরি হয়েছে।