
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেখানে সম্ভাব্য নৌ-অবরোধ আরোপের হুমকিও রয়েছে।
রোববার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন, যেখানে দাবি করা হয় ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশটির ওপর নৌপথে অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। এই অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের সমুদ্র বাণিজ্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে অর্থনীতিতে বড় ধস নামতে পারে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ধরনের অবরোধ শুধু ইরান নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীন ও ভারত, যারা ইরানি তেলের ওপর আংশিকভাবে নির্ভরশীল, তারাও এতে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ট্রাম্প-সমর্থিত একটি মাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণে নৌ-অবরোধকে তার পূর্ববর্তী এক কৌশলের পুনরাবৃত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অতীতেও ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা দেশটির অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আলোচনার ব্যর্থতা হতাশাজনক হলেও এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক সংলাপ চালু রাখা, যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি না ঘটে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়া এ ধরনের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে।