
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি হওয়ায় ন্যাটো এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামুখর। তবে ইরান যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়া নিয়ে তার অসন্তোষ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই অবস্থান ন্যাটোর ভাবমূর্তিতে স্থায়ী দাগ ফেলেছে।
অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এই পরিস্থিতিকে আন্তঃআটলান্টিক সম্পর্কের কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি জোটে সক্রিয় ভূমিকা কমিয়ে দেয়, তাহলে ন্যাটোর কার্যকারিতা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
আইনগতভাবে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসা সহজ নয়। এর জন্য কংগ্রেস বা সিনেটে বড় ধরনের সমর্থন প্রয়োজন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোটে থেকেও যুক্তরাষ্ট্র তার ভূমিকা সীমিত করে ন্যাটোকে দুর্বল করে দিতে পারে। যেমন, সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে সহায়তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ওয়াশিংটন। ইউরোপে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত কয়েক বছরে তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ালেও গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট ও আকাশ প্রতিরক্ষায় এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাটতি পূরণ করতে বিপুল অর্থ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপকেন্দ্রিক একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য পুনরুত্থানের প্রেক্ষাপটে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
সাবেক এক কূটনীতিকের মতে, ন্যাটো শুধু ইউরোপের নিরাপত্তা জোট নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ওয়াশিংটন নিজেই।
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তৈরি এই টানাপোড়েন ন্যাটোকে এমন এক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে সংস্কার কিংবা বিভক্তি, যেকোনো একটির দিকে এগোনো এখন সময়ের অপেক্ষা।