
ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার টানা বৈঠক ফলহীন হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও অযৌক্তিক শর্তকে দায়ী করেছে ইরান। কোনো সমঝোতা ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তান ছাড়ার পর ইরানি পক্ষ বলছে, আলোচনার টেবিলে এমন শর্ত চাপানো হয়েছে যা তাদের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু দাবি তোলে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ও ছিল। এসব শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই আলোচনা অচল হয়ে পড়ে। ইরানি এক সূত্রের ভাষায়, ‘যুদ্ধের ময়দানে যা অর্জন করা যায়নি, সেটিই আলোচনার মাধ্যমে আদায়ের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।’
পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে তিন সপ্তাহের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালায়। একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ নামে অভিযান শুরু করে। টানা সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশ।
তবে শীর্ষ পর্যায়ের এই সংলাপ ভেঙে যাওয়ায় স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। যদিও ইরান জানিয়েছে, কারিগরি পর্যায়ে যোগাযোগ ও নথিপত্র বিনিময় চলবে, তবু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অবস্থান থেকে সরছে না তেহরান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের অধিকার এবং পারমাণবিক কর্মসূচির স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার ব্যাপারে তারা দৃঢ় অবস্থানেই রয়েছে।