
ইরান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি নয়—কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ফ্রান্সে জি৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণে নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েও রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এই অভিযানে নির্ধারিত সময়সূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বা তার থেকেও এগিয়ে আছি। যথাসময়ে—কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই—এটি শেষ হবে।”
রুবিওর মতে, এই অভিযান শেষ হলে ইরান সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্বল অবস্থায় থাকবে। তিনি আরও বলেন, “আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যখন এই অভিযান শেষ হবে, তখন ইরান সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়বে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রুবিও জি৭ মিত্রদের জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তা আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
তবে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইতোমধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং তেহরানের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে আলোচনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এখনো ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইরান। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে বার্তা বিনিময় হয়েছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে আলোচনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এখনো তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।”