
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার সাথে নতুন মাত্রা পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের একজন শীর্ষ মুখপাত্র।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে খাতাম আল আম্বিয়া সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারিকে ইংরেজিতে বলতে শোনা যায়, ‘ট্রাম্প, তোমাকে বরখাস্ত করা হলো। তুমি এই বাক্যের সঙ্গে পরিচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। এর জবাবে তেহরানও পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা ও ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়টি যথাযথভাবে অনুমান করতে পারেননি ট্রাম্প। সংঘাত শুরুর পরপরই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান।
পরবর্তীতে কিছু নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও প্রতিপক্ষ দেশগুলোর জাহাজ পুরোপুরি আটকে দেওয়ার নীতি নেয় তেহরান। ইরানের এই অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, যার ফলে দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল মন্তব্য করেছেন, ১৯৭০-এর দশকের পর বিশ্ব আর এমন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েনি।
সূত্র: আল জাজিরা