.jpg)
ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন করছে যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বছর মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তেহরান।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইতিমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও আমাদের বিদেশি ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, এবং তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজ করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে।’
তিনি আরও জানান, কূটনৈতিক সমাধানকে প্রাধান্য দেন, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগেও প্রস্তুত আছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুসহ একাধিক বিষয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
তবে বুধবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেয়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমায়েল বাঘাই ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে মার্কিন দাবিকে ‘বড় মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জানুয়ারির অস্থিরতায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তারা যা অভিযোগ করছে, তা কেবল বড় মিথ্যার পুনরাবৃত্তি।’
২০২৫ সালে ডিফেন্স ইন্টিলেজেন্স সিকিউরিটি জানিয়েছিল, ‘তেহরান যদি এ সক্ষমতা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়’, তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিকভাবে কার্যকর আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। তবে ইরান এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তেহরানের হাতে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যার সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১,৮৫০ মাইল।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ইরানের পশ্চিম সীমান্ত থেকে ছয় হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন একটি চুক্তির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান ইতোমধ্যে দুই দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বাতিল করা পূর্ববর্তী সমঝোতার বিকল্প হিসেবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।