
ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র সরবরাহ করা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নিতে পারে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে মস্কো। রাশিয়া স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা পাল্টা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথেও যেতে পারে।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যদি কিয়েভের হাতে পারমাণবিক ওয়ারহেড তুলে দেয়, তবে তা সরাসরি যুদ্ধরত একটি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র দেওয়ার শামিল হবে। তার ভাষায়, এর জবাবে রাশিয়া ‘নন-স্ট্র্যাটেজিক’ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইউক্রেনকে সম্ভাব্য পারমাণবিক সহায়তা ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার মস্কোয় দেওয়া বক্তব্যে মেদভেদেভ বলেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স যদি ইউক্রেনকে পারমাণবিক ওয়ারহেড দেয়, তাহলে রাশিয়া নন-স্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।
ম্যাক্স মেসেঞ্জার অ্যাপে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসবিআরের প্রাপ্ত তথ্য বর্তমান পরিস্থিতিকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে। ওই তথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে, ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়ার গোপন পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স জড়িত।
২০০৮ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেদভেদেভ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের মানে হবে যুদ্ধরত একটি দেশের হাতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তুলে দেয়া।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জন্য ইউক্রেনের ভেতরে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হওয়া লক্ষ্যবস্তুতে যেকোনও ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। এতে নন-স্ট্র্যাটেজিক পারমাণবিক অস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। প্রয়োজনে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক সংঘাতে জড়িত সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এটিকে রুশ ফেডারেশনের ‘সমমাপের প্রতিক্রিয়া’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলাদা প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা বৈশ্বিক পারমাণবিক বিস্তাররোধ কাঠামোর জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে ইউরোপে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট সব নীতি ও নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এর আগে মঙ্গলবারই রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসবিআর দাবি করে, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র দিতে আগ্রহী। তাদের অভিযোগ, শান্তি আলোচনায় কিয়েভের অবস্থান শক্তিশালী করতেই এমন পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মেদভেদেভ ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির দশম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিয়েছে এবং ১৯৬২ সালের কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর মস্কো ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেনে রুশ অভিযানের বিরোধিতায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স শুরু থেকেই সরব অবস্থান নিয়ে আসছে।