
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পোন্নাগিউন টাউনশিপ-এ দেশটির জান্তাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নারিনজারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পোন্নাগিউনের ইয়োয়েঙ্গু গ্রামের বাজারে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আরাকান আর্মি (এএ) জানায়, প্রথমে ১১ জন নিহত হয়, পরে বিকেলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭-এ পৌঁছায়।
হামলায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকটি বাড়ি ও দোকানপাট পুড়ে গেছে। জানা গেছে, সামরিক জান্তা নিয়মিত রাখাইনের স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনা, এমনকি মঠেও বোমা হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: বিতর্কিত নির্বাচনের পর সামরিক নেতৃত্ব বেসামরিক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ কয়েকটি শক্তি এ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে নেপিদোর সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে বারবার পিছিয়ে পড়ার পর সামরিক জান্তা বেসামরিক গ্রামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে চীনা অবকাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিয়াকফিউ অঞ্চল-এ সরাসরি সংঘর্ষে সুবিধা করতে না পারায় আকাশ ও সমুদ্র থেকে হামলা চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক হামলার তালিকা:
১৫ ফেব্রুয়ারি মিন প্যিন গ্রামে বিমান হামলায় এক নারী ও এক শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত।
এর আগে নৌবাহিনীর গোলাবর্ষণে কিয়াউক পিয়াউ গ্রামে বসতঘরে আঘাত, যেখানে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরই গ্রামগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই সংঘর্ষ বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।