
পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার একটি গভীর অপপ্রয়াস ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বুধবার সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আজ এখানে কেবল জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং সেনা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছি।” দেশে ফেরার পরপরই শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন, গত ১৭ বছর ধরে বিচারের আশায় স্বজনহারা পরিবারগুলো কীভাবে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রতীক। পিলখানার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল। “এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত,”—উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ সেনাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের স্মৃতি রক্ষায় এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আধুনিক ও আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সমন্বয়, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। দেশের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে শহীদ সেনা সদস্যদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত বক্তারা বলেন, পিলখানার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই হবে প্রকৃত সম্মান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, “শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় চেতনাকে শক্তিশালী করেছে। তাদের স্মৃতিকে ধারণ করে আমরা একটি নিরাপদ, শক্তিশালী ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”