
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অনিশ্চিত’ হিসেবে উল্লেখ করে সুইডেন দেশটির নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানকে ঘিরে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনগার্ড স্থানীয় সময় শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “বর্তমান মুহূর্তে আকাশপথ ও স্থল সীমান্ত দিয়ে ইরান ত্যাগ করা সম্ভব, তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই কোনোভাবেই অপেক্ষা করা উচিত নয়।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, যাঁরা এই নির্দেশ অমান্য করে ইরানে থাকবেন, তাদের সমস্ত ঝুঁকি ব্যক্তিগত দায়িত্বে হবে। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ায় সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেখান থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিতে কোনো বিশেষ সহায়তা প্রদান করতে পারবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুইডেনের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে উত্তেজনা তীব্র অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানকে একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ বাধ্য করতে তিনি দেশটিতে সীমিত সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা বর্তমানে উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের নিরাপত্তা স্থাপনা ও পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর সপ্তাহব্যাপী টানা সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সম্ভাব্য এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতারাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টাও এই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে।
জর্ডানের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি এবং সুইডেনের নাগরিক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও দৃঢ় করেছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে এই পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে।
সূত্র: রয়টার্স