
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে সম্মত বিশ্বনেতাদের বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্বাগত জানানো হয়। ব্যক্তিগত প্রশংসা ও আনুষ্ঠানিকতার মিশেলে ছিল এই আয়োজন।
অতীতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প কখনও প্রশংসা, কখনও কড়া বার্তার কৌশল নিয়েছেন। তবে এদিন উপস্থিত নেতারা তাকে তুলনামূলকভাবে আন্তরিক রূপেই দেখেন। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচিত নেতাদের প্রসঙ্গেও কোনো প্রকাশ্য সমালোচনা উচ্চারিত হয়নি।
বরং যারা উদ্বোধনী বৈঠকে অংশ নেননি, তাদের উদ্দেশে ছিল সতর্কবার্তা। ট্রাম্প বলেন, “আমার সঙ্গে চালাকি করা যাবে না।”
গত সেপ্টেম্বরে গাজা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ট্রাম্প যে ফোরাম গঠন করেন, সেটিকে তিনি বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনের একটি প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে চান। তবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিত্র এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ জাতিসংঘের কার্যক্রমের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে।
নেতারা যখন দলীয় ছবির জন্য একত্র হন, তখন পটভূমিতে বাজতে থাকে জেমস ব্রাউনের ১৯৬৬ সালের গান ইটস আ ম্যানস ম্যানস ম্যানস ওয়ার্ল্ড (It's a Man's Man's Man's World)।
যদিও বোর্ডের প্রথম অগ্রাধিকার গাজা, ট্রাম্প তার স্বাগত বক্তব্যের প্রথম ২৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেননি। বরং মঞ্চে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগতভাবে প্রশংসা করেন এবং কারও চেহারা, সম্পদ ও শক্তির উল্লেখ করেন।
তার দুপাশে বসা বিশ্বনেতাদের—এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নাম ধরে উল্লেখ করেন তিনি। তাদের সামনে টেবিলে রাখা ছিল লাল রঙের ‘ম্যাগা’ টুপি।
ট্রাম্প বলেন, “প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট (সান্তিয়াগো) পেনা এখানে আছেন,” ৪৭ বছর বয়সী নেতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তরুণ সুদর্শন ব্যক্তি। তরুণ ও সুদর্শন হওয়া সব সময়ই ভালো। তবে এর মানে এই নয় যে আমাদের আপনাকে পছন্দ করতেই হবে। আমি তরুণ সুদর্শন পুরুষদের পছন্দ করি না। নারীদের পছন্দ করি। পুরুষদের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই।”
এক পর্যায়ে তিনি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-এর ‘কঠোর’ চেহারার প্রসঙ্গ টেনে উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, শুল্ক আরোপের হুমকি ব্যবহার করে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে সংঘাত প্রশমনে চাপ দিয়েছিলেন। যদিও এর আগে ভারত এ দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।