
গাজীপুরের টঙ্গীতে স্থানীয়ভাবে হারবাল ব্যবসায়ী ও কেমিস্ট হিসেবে পরিচিত তৌহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২) অবৈধ মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন। স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফার লোভে তিনি গোপনে ইয়াবা তৈরির ল্যাব গড়ে তুলেছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকার গোয়েন্দারা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ শিমুলকে গ্রেপ্তার করেন। প্রাথমিক পরীক্ষা দেখিয়েছে, জব্দকৃত বড়িগুলো অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা।
অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টার দিকে গোয়েন্দারা ক্রেতার ভান করে শিমুলের ভাড়া বাসায় যান। শিমুল প্রথমে তাদের কাছে ৫ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হন। পরে তাকে আটক করে তার পাশের টেবিলের বড়ি ও সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিমুল স্বীকার করেন, এগুলোই ইয়াবা প্রস্তুতির উপকরণ। পরবর্তীতে তার শোবার ঘর থেকে ৪৫০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, শিমুল আগে গাজীপুরের পুবাইলে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জনের পর চার মাস আগে নিজেই ইয়াবা উৎপাদনে হাত দেন। তিনি আগে একটি আয়ুর্বেদিক দোকানও পরিচালনা করতেন। তার বাসা থেকে উদ্ধারকৃত কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ১৫–২০ হাজার ইয়াবা তৈরি সম্ভব।
তিনি আরও জানান, শিমুল ৫০০ ইয়াবা কিনে গুঁড়া করে রঙ ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ৫ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন। এরপর এই ইয়াবাগুলো গাজীপুর, ঢাকা ও সাভারে চক্রের সদস্যদের কাছে পাইকারি বিক্রি হতো।
মেহেদী হাসান বলেন, পুরো ইয়াবা উৎপাদন ও বিপণন চক্রের তথ্য হাতে এসেছে এবং অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করার কাজ চলছে।