.jpg)
যুক্তরাষ্ট্রের একটি কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে যে নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, তা “প্রশ্নবিদ্ধ” হিসেবে বিবেচিত হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে দেশের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ হয়।
‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ শিরোনামে ব্রিফিং আয়োজন করে হিন্দুঅ্যাকশন এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা। এতে ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে গণতন্ত্র ও মানবতার শত্রু আখ্যায়িত করেন।

রুবিন বলেন, “ধর্মের আড়ালে অন্যায় ও দুর্নীতির দায় এড়াতে জামায়াতে ইসলামী ইসলামকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি বাংলাদেশের জন্য কখনও শুভ ফল বয়ে আনবে না।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান (মিশিগান) টম ব্যারেট বলেন, “ইসলামিক চরমপন্থিরা বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্র মানবতার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। আমরা সবসময় দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রমনিয়ম (ভার্জিনিয়া) মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে পুরনো ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়। এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন সাবেক মার্কিন অ্যাম্বাসেডর স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক, তিনি বলেন, “সাম্প্রদায়িক সহমর্মিতা ব্যাহত হলে তা শুধু মানচিত্রে নয়, দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকেও প্রভাবিত করে।”

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, যিনি আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানান। সাউথ এশিয়ান মাইনোরিটিজ কালেক্টিভের প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সাহা বলেন, “বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কোনো নিরাপত্তা নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেও বর্বরতা চলছে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দীলিপ নাথ, শুভ রায়, আরিফা রহমান রুমা, রানা হাসান মাহমুদ, রিটভিক হ্যারি, আদেল নজরিয়ানা এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা শাস্তিকা বিশ্বাস, পূজা দেবি, শায়ান শিল ও প্রেমজিৎ আচারি।
নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার, ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান মাইক লেভিন, ইয়ং কিম ও ডেভিড মিনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন থিংক ট্যাংকের কর্মকর্তা এবং কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দ্বীজেন ভট্টাচার্য অংশগ্রহণ করে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।