
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক কমান্ডার হুসেইন কানানির বিস্ফোরক মন্তব্য। তিনি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দু’দেশই অবগত।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে (আরটি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন কানানি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র আছে এবং এ ব্যাপারটি যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানে। এমনকি ইসরায়েলও এই ব্যাপারটি জানে।’
ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আড়াল থেকে সহায়তা দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্য ছিল কেবল সরকারের পতন নয়; বরং ইরানকে ভেঙে ফেলা এবং সৃষ্ট পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো।
প্রায় দুই দশক ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর সেই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
এ ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
গত ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তা কঠোরভাবে দমন করে তেহরান। বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকি দেন, যা দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী রণতরী ও শতাধিক যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে—যা ইরানের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে হুসেইন কানানির ভিন্ন ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘যদি ওয়াশিংটন হামলা করে, তাহলে সম্ভবত প্রথম পর্যায়ে তেহরান সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চলাবে না। তার চেয়ে বরং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।’