
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আজিমুল কাদের ভূঁইয়া (৪০) এর মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বেলাবো উপজেলার বাজনার ইউনিয়নের বীর বাঘবের গ্রামের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া ওই এলাকার মৃত মান্নান ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি বেলাবো উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি রাত প্রায় ৮টার দিকে নিজ এলাকার পোল্ট্রি খামার থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যর্থ হলে পরদিন বুধবার ২৮ জানুয়ারি তার ভাগ্নে মো. উমর ফারুক বেলাবো থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘটনাস্থল ঘুরে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার আনুমানিক ১৫ দিন আগে আজিমুল কাদের ভূঁইয়া তার পোল্ট্রি খামারে কাজের জন্য দুইজন শ্রমিক নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম রুবেল জানা গেলেও অন্যজনের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিবার কিংবা স্থানীয় বাসিন্দারা কেউই ওই দুই শ্রমিকের নাম ও ঠিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
নিখোঁজের পর থেকে ওই দুই শ্রমিকেরও কোনো সন্ধান নেই। একই সঙ্গে খামারে থাকা সব মুরগি উধাও হয়ে গেছে। এসব কারণে পুরো ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছে আরও রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এলাকার একটি ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে তারা বেলাবো থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে বেলাবো থানার ওসি তদন্ত নাসির উদ্দিন বলেন, “জিডি দায়েরের পর পুলিশ খোঁজাখুঁজি করছিল। আজ বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করা হয়। মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”