
নওগাঁয় নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নেই। জনগণ সঙ্গে ছিল বলেই গত ১৭ বছর অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও বিএনপি টিকে আছে’।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কর্মসূচির অংশ হিসেবে নওগাঁ সফরে যান বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে এক পক্ষ দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আরেকটি পক্ষ আছে, যারা আগে থেকেই তাদের সঙ্গে ছিল। ১৭ বছর মাঠে-ঘাটে তাদের দেখা যায়নি। এখন আবার ভেতরে-ভেতরে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো খালি বাক্সকে ভরা বাক্স বানানোর চেষ্টা যেন না হয়, সে জন্য সবাইকে ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা গ্রামের মানুষের, নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদে পথে হাঁটতে পারে, নিরাপদে ঘুমাতে পারে; সে লক্ষ্যেই কাজ করব। ঢাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি।’
কৃষকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’
তিনি জানান, নওগাঁ অঞ্চলে ধানের পাশাপাশি আম উৎপাদন হয়, কিন্তু আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নেই; এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য কম খরচে ঢাকায় নিতে রেলব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করেছিলেন। আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ মওকুফ করব। পর্যায়ক্রমে কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যাতে বীজ ও সার সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়।’
নারীদের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারিভাবে মাসিক সুবিধা পাওয়া যাবে। গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গ্রামে হেলথকেয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
শিক্ষিত বেকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে; এমন নয়। খেলাধুলা ও আইটি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে।’
তিনি জানান, আইটি সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে, যারা বাংলাদেশে এসে কাজ করতে আগ্রহী।