
রাতের অন্ধকারে স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ‘ইরিও’ কোম্পানির একটি হাইস্পিড ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়লে প্রাণ হারান অন্তত ৪০ জন, আহত হন ১২০ জনের বেশি।
রোববার রাতে আন্দালুসিয়ার আদামুজ এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনাকে ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ঘটনার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজ স্পেনের জন্য শোকের দিন। আমরা ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করব এবং স্বচ্ছভাবে দেশবাসীর সামনে তা তুলে ধরব।”
আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকারপ্রধান হুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো জানান, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা নির্ধারণে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইরিও’ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে ট্রেনটির কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং সেটি প্রায় নতুন। এদিকে রেনফে’র প্রেসিডেন্ট আলভারো ফার্নান্দেজ হেরেদিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে মানবিক ভুল বা অতিরিক্ত গতি দায়ী নয়; বরং যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা রেললাইনের সমস্যার ইঙ্গিত মিলছে।
দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রী লুকাস মেরিয়াকো স্থানীয় টেলিভিশনকে বলেন, “এটি যেন এক ভয়াবহ সিনেমা। পেছন থেকে প্রচণ্ড ধাক্কা অনুভব করি, মনে হচ্ছিল পুরো ট্রেন ভেঙে পড়বে।” দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা পানি, কম্বল ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তায় এগিয়ে যান।
এই ঘটনায় পোপ লিও চতুর্দশ এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ নিহতদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, স্পেনে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, সেভিয়া, ভ্যালেন্সিয়া ও মালাগাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছে।