
অস্ট্রেলিয়ার পর্যটন নগরী সিডনির সমুদ্রসৈকতে মাত্র ২৬ ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক তিনটি হাঙরের হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় শহরের সব সৈকত অচল ঘোষণা করা হয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। দ্বিতীয়টি সোমবার দুপুরের ঠিক আগে, এবং তৃতীয়টি ঘটে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে।
নিউসাউথ ওয়েলস পুলিশ মেরিন এরিয়া কমান্ডের কমান্ডার সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ ম্যাকনাল্টি জানান, প্রথম ঘটনায় সিডনি হারবারে বন্ধুদের সঙ্গে পানিতে নামার সময় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরকে হাঙর আক্রমণ করে। কিশোরকে বন্ধুরা দ্রুত পানি থেকে তুলে তীরে নিয়ে আসে। বর্তমানে সে সিডনি চিলড্রেনস হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
ম্যাকনাল্টি বলেন, “ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। সম্ভবত একটি বুল শার্ক কিশোরটির পায়ে আঘাত করেছে।” তিনি কিশোরের বন্ধুদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, “যেভাবে তারা তাকে উদ্ধার করেছে, তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।”
পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, কিশোর ও তার বন্ধুরা ছয় মিটার (২০ ফুট) উঁচু পাথর থেকে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ভারি বৃষ্টির কারণে লবণাক্ত ও মিঠা পানির মিশ্রণ তৈরি হয়েছিল, যা হাঙরকে তীরের কাছে টেনে আনতে পারে। উদ্ধারকালে তার দুই পায়ে টুর্নিকেট বেঁধে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয় এবং তীরে পৌঁছে সিপিআর প্রদান করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রথম ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিডনির উত্তরের ডি হোয়াই পয়েন্টে ১১ বছর বয়সী এক শিশু সার্ফিং করার সময় হাঙরের আক্রমণের শিকার হন। হাঙর তার সার্ফবোর্ডের প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার অংশে কামড় দেয়, তবে শিশুটি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, এটিও বুল শার্কের কামড়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ম্যানলি এলাকার নর্থ স্টেইন বিচে ২৫ বছর বয়সী এক যুবক হাঙরের হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন। তার পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে এবং তাকে রয়্যাল নর্থ শোর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর নর্দার্ন বিচেস এলাকার সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ম্যানলি সৈকত প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক আকর্ষণ করে। নর্দার্ন বিচেস কাউন্সিল জানিয়েছে, বিপজ্জনক ঢেউ ও আবহাওয়ার কারণে পাম বিচ ছাড়া অন্যান্য সৈকত সোমবার পর্যন্ত বন্ধ ছিল।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর গড়ে ২০টি হাঙরের হামলার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সাধারণত দুই থেকে তিনটি প্রাণঘাতী হয়। সিডনিতে হাঙরের হামলা বিরল; গত ৬০ বছরে মাত্র তিনটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে সিডনির এক সৈকতে ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাঙরের আক্রমণে নিহত হন।