
ইসরায়েলের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এমন পরিণতির মুখোমুখি হবে, “যা আগে কখনো দেখেনি।”
সোমবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে স্বৈরতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সমালোচকদের উচিত ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, এসব সহিংসতায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় এই তথ্যগুলো পুরোপুরি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে।
গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে তুরস্ক কিংবা কাতারের কোনো নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে মোতায়েন থাকবে না। তবে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গঠিত নির্বাহী বোর্ডে এই দুই দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের মূল শর্ত হচ্ছে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং পুরো গাজা উপত্যকাকে সামরিক কার্যক্রমমুক্ত করা। এই লক্ষ্য সহজ পথে অর্জন সম্ভব না হলে কঠোর পন্থা অবলম্বন করা হবে বলেও জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত উদ্যোগের দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।