
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে গাম্বিয়া—এমন দাবি করেছে মিয়ানমার। নেদারল্যান্ডসের হেগে চলমান শুনানিতে দেশটি এই অবস্থান তুলে ধরে।
২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত দেশ গাম্বিয়া, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো–অপারেশনের (ওআইসি) ৫৭ দেশের জোটের সমর্থনে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে। মামলাটি রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা নিয়ে।
শুক্রবার শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কো কো হ্লাইং বলেন, ‘গাম্বিয়া প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলার রায় হবে প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে, অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে নয়৷’
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের পর অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে ওই অভিযানের সময় হত্যা, গণধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটার কথা উল্লেখ করা হয় এবং এতে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ সংঘটিত হয়েছে বলেও বলা হয়।
তবে আইসিজেতে কো কো হ্লাইং দাবি করেন, ২০১৭ সালের ওই অভিযান ছিল একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ, কোনো গণহত্যা নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ কিংবা নির্ভরযোগ্য ছিল না।
এর বিপরীতে আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘মিয়ানমারের হাজার হাজার বেসামরিক রোহিঙ্গার ওপর আক্রমণ এবং তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল- বিচারকদের এমন সিদ্ধান্তে আসা যুক্তিসঙ্গত হবে না৷’
শুনানিতে কো কো হ্লাইং আরও বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার ২০১৭ সাল থেকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোভিড-১৯ মহামারি, ঘূর্ণিঝড় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে আমাদের উদ্দেশ্য এই জনগোষ্ঠীকে নির্মূল বা জোরপূর্বক বিতাড়িত করা নয়।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আইসিজেতে মামলাটির শুনানি আরও তিন সপ্তাহ চলবে। আগামী বুধবার থেকে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে আদালত রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনবেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আদালতে সরাসরি নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন রোহিঙ্গারা। চলতি বছরের শেষ দিকে মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে