
গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তা এককভাবে নয়, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোকাবিলা করা হবে এ ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপীয় নেতারা। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ইতিমধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তা এককভাবে নয়, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে করা হবে।” তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন এবং আশ্বাস পেয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলায় ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো পরিস্থিতি গ্রিনল্যান্ডে হবে না।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কে স্থানান্তর করলে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে তার নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে যাতে সেখানে জোরপূর্বক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে ইউরোপীয় মিত্ররা স্পষ্ট করে জানিয়েছে গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের।
ফিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োহানেস কোসকিনেন বলেন, “বিষয়টি ন্যাটোর ভেতরে আলোচনার বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র কি একপক্ষীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবে মিত্রদের অবস্থান এখানে স্পষ্ট হতে হবে।”
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ট মার্কো রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় রাসমুসেন বলেন, “এ বিষয়ে সংযম ও বাস্তবভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজন। চিৎকারের রাজনীতি বন্ধ করে যুক্তিসঙ্গত সংলাপ শুরু করতে হবে।”
ডেনমার্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগ করা হলে ন্যাটোর সঙ্গে ৮০ বছরের নিরাপত্তা সহযোগিতা ভেঙে পড়তে পারে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের কর্মকর্তাদের বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড সরকারও অংশ নেবে।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, “প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের।” তিনি আরও বলেন, ইইউ সব জায়গায় আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন গ্রহণ করবে না সাইপ্রাস, লাতিন আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, ইউক্রেন বা গাজা যেখানেই হোক।
গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বও উল্লেখযোগ্য। ৫৭ হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থিত এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ড ‘কেনা’।