
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনির জামিনের পর ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিক ও এক বিচারপ্রার্থীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় বুধবার (৪ নভেম্বর) পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন এই চিত্রনায়িকা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, এদিন সকালে প্রায় ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন পরীমনি। তবে আদালত থেকে বের হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় পরীমনির নিরাপত্তাকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করেন।
নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধরে জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার আহত হন। আশিকুজ্জামানের পিঠে এবং কাউছারের কাঁধ ও হাতে আঘাত লাগে। এ সময় আশিকুজ্জামানের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আহত আশিকুজ্জামানকে আদালতের পাশের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সমকালের প্রতিবেদক রবিউল হোসেন অভিযোগ করেন, পরীমনি নিজেই তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন অভিযোগ করেন, চিত্রনায়িকা তার হাতে খামচি দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের লাঠিপেটা ও ধাক্কাধাক্কিতে এক বিচারপ্রার্থীও আহত হন। আদালত চত্বরে ওই ব্যক্তির মাথায় রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যান্ডেজ বাঁধতে দেখা যায়। তবে তার ভাই তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে চাননি। তিনি জানান, আগে চিকিৎসা করিয়ে পরে বিষয়টি জানাবেন।
এদিকে, ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।