অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে বিচ্ছেদের দীর্ঘদিন পর মুখ খুলেছেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেট। তাঁর দাবি, মিষ্টি হাসির আড়ালে বাঁধনের অন্য এক রূপ তিনি দেখেছেন। সনেটের ভাষায়, ‘মিষ্টি হাসির মুখোশের আড়ালে লোভী নারী’র প্রেমে পড়ে তিনি জীবনের বড় ভুল করেছিলেন।
সনেট জানান, ২০০৮ সালে পরিচয়ের পর বাঁধনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বাঁধনের আগ্রহেই বিয়ে করেন তিনি। তবে বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, সংসারের অন্যান্য খরচ বহনের পাশাপাশি বাঁধন প্রতি মাসে এক লাখ টাকা হাতখরচ দাবি করতেন। মাসের দ্বিতীয় তারিখের মধ্যে টাকা না দিলে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি করতেন বলেও দাবি সনেটের।
তাঁর ভাষ্য, বাঁধন ব্যবসায় অংশীদারত্ব চাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়ে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতেন। একপর্যায়ে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়। সনেটের দাবি, বাঁধনের পরিবারের লোকজনও বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন।
সনেট আরও বলেন, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে সংসার করার আশায় তিনি নিজের সঞ্চয়, ঋণ এবং এমনকি মায়ের জমি বিক্রি করে বাড়ি নির্মাণ ও সাজসজ্জায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছিলেন। বাড়ির ছাদে সুইমিং পুলও তৈরি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সংসার টেকেনি। তাঁর অভিযোগ, বাঁধনের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘এক কাপড়ে’ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বিচ্ছেদের পরও তাঁদের একমাত্র মেয়ে সায়রাকে নিয়ে টানাপোড়েন চলতে থাকে বলে দাবি করেন সনেট। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর মেয়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়।
সনেটের আরও অভিযোগ, মেয়েকে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা নিয়েও বাঁধনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ হয়েছে। তিনি মেয়েকে কানাডায় পড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানান। কিন্তু তাঁর দাবি, বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বাঁধন অন্যদের কাছে প্রচার করেছেন যে, তিনি জোর করে মেয়েকে বিদেশে পাঠাতে চান।
প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ তুলেছেন সনেট। তাঁর দাবি, বাঁধন পরিবারের সদস্য ও গৃহকর্মীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করতেন এবং তাঁর আচরণের কারণে পরিবারের সবাই ভীত থাকতেন। এমনকি মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বাঁধন ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
সনেট বলেন, বিচ্ছেদের পর তিনি নতুন করে সংসার শুরু করলেও বাঁধনের সঙ্গে বিরোধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান স্ত্রীকেও বাঁধন বিভিন্নভাবে বিরক্ত করছেন। তবে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
১৯৬৬ সালে জন্ম নেওয়া মাশরুর সিদ্দিকী সনেট ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীতে কমিশন পান। ২০০২ সালে মেজর হিসেবে সেনাবাহিনী ছাড়ার পর বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে বসবাস করছেন।
সনেটের দাবি, ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাঁধনের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলেও সম্প্রতি তিনি বিচ্ছেদের সনদ দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।