
প্রেমের পরিণয় থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১০ বছরের সংসার, তবুও শেষরক্ষা হলো না ইকরার। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ ইকরার পরিবার। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরকীয়া এবং স্বামীর মানসিক নির্যাতনের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা কবির হায়াত খান বাদী হয়ে গত রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে অভিনেতা জাহের আলভীকে এবং দ্বিতীয় আসামি হিসেবে তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আলভী ও ইকরা। বর্তমানে তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি নাসরিন সুলতানার প্ররোচনায় ইকরার ওপর মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন চালাতেন আলভী। বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকবার মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
পারিবারিক কলহ চরমে পৌঁছায় প্রায় দুই বছর আগে, যখন ইকরা জানতে পারেন যে আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এরপর থেকেই তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দূরত্ব বাড়তে থাকে। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা প্রায়ই ইকরাকে অপমান করতেন এবং তাকে তাদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করতেন। এমনকি আলভী মাঝেমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে ইকরাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। ইকরার শাশুড়ি নাসরিন সুলতানা ফোনের মাধ্যমে তার মামা এস এম জায়েদ আল ফাত্তাহকে জানান যে, ইকরা নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরবর্তীতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে ইকরার নিথর দেহ দেখতে পান। পল্লবী থানা পুলিশ পরবর্তীতে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আলভী অন্য এক নারীর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যা ইকরার মানসিক অবস্থাকে আরও শোচনীয় করে তোলে। পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক পোস্ট এবং দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণাই তাকে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। মামলার বাদী কবির হায়াত খান জানিয়েছেন যে, পরিবারের সবার সাথে আলাপ-আলোচনার কারণে মামলা করতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য বের করে আনার দাবি জানিয়েছেন ইকরার স্বজনেরা।