
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, শুধু ভালো ফলাফল কিংবা সার্টিফিকেট অর্জনকে জীবনের সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, সমাজসেবা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চাও শিক্ষার্থীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, স্কাউটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাতেও ভালো ফলাফল করছে। তাদের এ অর্জনকে রাষ্ট্রীয় উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনা প্রয়োজন।
আগামী দিনের বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এসএসসির পর কলেজ এবং পরবর্তী সময়ে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার আরও বিকাশ ঘটাতে হবে।
ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, সফল হতে হলে সবাইকে ডাক্তার বা প্রকৌশলী হতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক কিংবা বিজ্ঞানচর্চাসহ যার যে ক্ষেত্রে আগ্রহ ও দক্ষতা রয়েছে, সেই ক্ষেত্রেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বর্তমান সাফল্য কোনো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; বরং এটি বড় লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক ধাপ। সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমকে জীবনের ভিত্তি করে নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, তাদের হাত ধরে সমৃদ্ধ, মানবিক, দক্ষ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে পাশে থাকবে।