
শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে ‘সেরা শিক্ষক’ নির্বাচন করে পদক ও পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ১৪টি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে যোগ্য শিক্ষকদের নির্বাচন করে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি তাদের পাঠদান ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. নাজমুল হকের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে মাউশি। পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেরা শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, নিজ বিষয়ের জ্ঞান, পেশার প্রতি নিষ্ঠা এবং শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া মূল্যায়ন ও প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দক্ষতা, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণও বিবেচনায় থাকবে।
শিক্ষকের চারিত্রিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও উদ্যমের পাশাপাশি পোশাক-পরিচ্ছদ, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা এবং শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাও মূল্যায়ন করা হবে।
পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে অবদান, পেশাগত বা গবেষণামূলক সৃজনশীল প্রকাশনা এবং গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি উত্তম চর্চা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকের ভূমিকা বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া কমিটির কাজে দক্ষতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, কার্যকরভাবে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এবং সবুজ-পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা—এসব বিষয়ও ‘সেরা শিক্ষক’ নির্বাচনের মানদণ্ডের মধ্যে রাখা হয়েছে।