.jpg)
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের পরও বাজারে বিক্রি হচ্ছে কোমল পানীয় সেভেন-আপ (7UP)। এ ঘটনায় পণ্যটির মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সেভেন-আপের নমুনায় অ্যাসপারটেম ও অ্যাসিসালফেম পটাশিয়ামের নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রমের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে পরীক্ষার প্রতিবেদন ও প্রযোজ্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড (বিডিএস) নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অধীন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি) ২০২৩ সালে অ্যাসপারটেমকে ‘সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ পদার্থ হিসেবে গ্রুপ ২বি-তে শ্রেণিবদ্ধ করে। তবে এ শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ এই নয় যে, অ্যাসপারটেমযুক্ত কোনো পানীয় গ্রহণ করলেই ক্যানসার হবে। খাদ্যে অনুমোদিত মাত্রা ও সামগ্রিক গ্রহণের পরিমাণ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেভেন-আপের নমুনায় অ্যাসিসালফেম পটাশিয়াম ৪৫০ মিলিগ্রাম এবং অ্যাসপারটেম ১ হাজার মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট মান অনুযায়ী এগুলোর সর্বোচ্চ সীমা যথাক্রমে ৩০০ ও ৭০০ মিলিগ্রাম বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার একক, নমুনার ধরন, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন এবং প্রযোজ্য মানদণ্ডের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মানের ব্যত্যয়ের অভিযোগে সেভেন-আপের বাংলাদেশি বাজারজাতকারী ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন রহমানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে এবং আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী তারিখ ১৬ নভেম্বর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, কোনো পণ্য মানহীন প্রমাণিত হলে তা প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করা মাহবুব কবীর মিলন বলেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড যথাযথভাবে অনুসরণ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পণ্যের মান ঠিক থাকলেও লেবেলে প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মামলাটির অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহাং কামরুল হাসান এটি দায়ের করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াস জাহেদী সেভেন-আপের নমুনা মানসম্পন্ন ও নিরাপদ নয় বলে সনদ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের হেড অব ব্র্যান্ড শরিফুদ্দিন শ্যামলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রশ্ন পাঠানো হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি ও সেভেন-আপের মূল কোম্পানি পেপসিকোর কাছে ই-মেইলে বক্তব্য চাওয়া হলেও নয় দিনেও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।