
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার আশঙ্কায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাইয়ের পর রোববার সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি আবার সচল করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ওয়েবসাইটটি বন্ধ করা হয়। রোববার ভোর পর্যন্ত এতে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। পরে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে এটি চালু করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব সমস্যা ছিল না। বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে সেটি আবার চালু করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। রোববার সকাল ৮টা থেকে সেটি সচল হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করে তা সমাধানের কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদেরা। একই নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পিএইচপিতে তৈরি কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে হামলার আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এর ফলে সার্ভারে থাকা ফাইল, তথ্যভান্ডার ও গুরুত্বপূর্ণ উপাত্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এই আশঙ্কায় ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল সেবায়ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই যে এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তা নয়। ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদের অবস্থা এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।
সরকারি ৩৬ হাজার ৫০০ ওয়েবসাইট নিয়ে তথ্য
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পোর্টাল কাঠামোর আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপি দিয়ে তৈরি নয়। ফলে এই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সেগুলোর সরাসরি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যাচাই করা হয়।
নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা
এদিকে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সার্ভারে পিএইচপি ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং কোন সংস্করণ চলছে, তা শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।
পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা এবং অননুমোদিত সংযোগের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।