
সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলেও জ্বালানি, ব্যাংকিং ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট খুব শিগগিরই শেষ হওয়ার নয়। সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এমন মতামত দিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বেসরকারি খাতকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক। বিশেষ করে রুগ্ণ, আংশিক বন্ধ ও বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কিছু নীতিগত বিষয় সহজ করার উদ্যোগও ব্যবসার জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
আংশিক রপ্তানিমুখী ও বন্ড সুবিধাবঞ্চিত রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই সিদ্ধান্ত রপ্তানিকারকদের কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ করবে। করনীতিতেও ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শিল্প খাতের জন্য বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এই সংকটের স্বল্পমেয়াদি সমাধান সহজ নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠন ও নেতাদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে।
বিকেএমইএর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করেছে। তবে এই সংকট সমাধানে কোনো ‘শর্টকাট’ নেই। নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। ফলে দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সংকটের সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।
এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোও এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ হাতেম। একই সঙ্গে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিকেএমইএ সভাপতি।