
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি, অফিস ও রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়ি এবং সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ সারি এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়িচালকরা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। বেশিরভাগ স্টেশনে ভোর ৫টা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর স্বল্পচাপে কিছু গ্যাস পাওয়া গেলেও এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত পাম্প বন্ধ থাকছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় স্টেশনগুলোর বেচাকেনাও নেমে এসেছে তলানিতে। ফলে চালকরা বাধ্য হয়ে মাত্র ৫০ থেকে ১৫০ টাকার গ্যাস নিচ্ছেন।
রাজধানীর শাহবাগ, মালিবাগ ও মগবাজারের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো সরেজমিন ঘুরে একই ধরনের ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা।
মালিবাগের একটি পাম্পে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ২১৫ টাকার গ্যাস নিতে পেরেছেন নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, গ্যাস সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এবং এতে তাকে প্রায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
শাহবাগের একটি পাম্পে গ্যাস নিতে আসা সিএনজি চালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। দুপুর ১টা বাজলেও তখনো গ্যাস পাননি তিনি। সংসার কীভাবে চালাবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁর ভাষায়, গ্যাস না পেলে তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে যায়।
মগবাজারে গ্যাস নিতে আসা সিএনজি চালক মাজহার বলেন, প্রতিদিন মহাজনকে ১ হাজার ৩০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাস বাবদ খরচ হয় প্রায় ৬০০ টাকা। অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রয়োজন হয়। কিন্তু পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ২০০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় আয় করার সুযোগই থাকছে না বলে জানান তিনি।