
দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে কোনো ধরনের আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান।
শেয়ারবাজারের মার্জিন ঋণ কার্যক্রমকে আরও সুরক্ষিত, সুশৃঙ্খল ও ঝুঁকিযুক্ত করার লক্ষ্যে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর সংশোধিত খসড়ায় এই কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিএসইসি স্পষ্ট করেছে, বাধ্যবাধকতামূলক শেয়ার বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার পরও যদি বাজার পরিস্থিতির কারণে শেয়ার বিক্রি বিলম্বিত বা ব্যর্থ হয়, তবে তার আর্থিক ক্ষতির দায়ভার ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বহন করবে না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জানায়, এই খসড়ার ওপর স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিমার্জন শেষে এটি সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
খসড়া বিধিমালার মূল শর্তাবলী:
৭০% ইক্যুইটি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক: গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ইক্যুইটির পরিমাণ মার্জিন ঋণের অন্তত ৭০ শতাংশ থাকা নিশ্চিত করতে হবে। ইক্যুইটি এর নিচে নামলেই সঙ্গে সঙ্গে ই-মেইল, নিবন্ধিত ফোন নম্বর বা সরাসরি লিখিতভাবে বিনিয়োগকারীকে ‘মার্জিন কল’ পাঠাতে হবে।
৩ দিনের সময়সীমা: মার্জিন কল পাওয়ার পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিনিয়োগকারী প্রয়োজনীয় ইক্যুইটি পুনঃস্থাপন করতে না পারলে তাকে আর নতুন কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্টে থাকা প্রয়োজনীয় পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে ইক্যুইটি সমন্বয় করার এখতিয়ার পাবে।
ঋণের অনুপাত ও যোগ্যতা: একজন গ্রাহকের নিজ ইক্যুইটির সমপরিমাণ (১:১ অনুপাতে) সর্বোচ্চ ঋণ পাওয়া যাবে। তবে জীবন বিমা কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ১:০.২৫। এছাড়া মার্জিন ঋণ সুবিধা পেতে গ্রাহকের পোর্টফোলিওতে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ার বিনিয়োগ থাকতে হবে।
যেসব শেয়ারে ঋণ মিলবে না: শুধুমাত্র মূল বোর্ডের তালিকাভুক্ত শেয়ারে মার্জিন ঋণ প্রযোজ্য হবে। তবে ‘জি’, ‘এন’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরি এবং এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের কোনো সিকিউরিটিতে এই সুবিধা মিলবে না।
পিই ও পিবি অনুপাতের শর্ত: পিই (Price-to-Earnings) অনুপাত ৩০-এর বেশি হলে কিংবা যে সকল কোম্পানির ইপিএস (EPS) ঋণাত্মক, সেগুলোতে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পিবি (Price-to-Book) অনুপাত ৩-এর বেশি এবং বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ১-এর বেশি হলে শেয়ার কেনার বিপরীতে ঋণ সুবিধা স্থগিত থাকবে।
ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তাবিত বিধিমালয়ায় প্রতিটি মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম দুই সদস্যের ‘ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন বাধ্যবাধকতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো প্রতিষ্ঠান তার মোট মার্জিন ঋণের ২০ শতাংশের বেশি একক কোনো সিকিউরিটিতে বা একক গ্রাহকের মার্জিন ঋণের ২০ শতাংশের বেশি একটি নির্দিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবে না।