
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার (২০ জুলাই) তেলের দাম এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার সিঙ্গাপুর সময় সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২০ ডলারে ওঠে। এটিও এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান।
বিশ্ববাজারে এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালায়। অন্যদিকে কুয়েত ও বাহরাইন আরও ইরানি হামলার খবর দিয়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজি জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রাখায় পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে জাহাজ দুটি ‘অনিরাপদ’ পথ ব্যবহার করছিল। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করা জাহাজগুলোই লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কুমজার উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলএসইজি'র তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র চারটি জাহাজ, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল আটটি। শুক্রবারের পর থেকে অন্তত তিনটি তেলপণ্যবাহী ট্যাংকার এবং একটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি) প্রণালিতে প্রবেশ করেছে তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।