
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে আরও এক মাদক কারবারি মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কর্মসংস্থানের শর্তে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে জামপুর ইউনিয়নের মীরেরবাগ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. সুলতান মিয়া বিএনপি নেতা আল মুজাহিদ মল্লিকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে মা, চাচি, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দেন। এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) মাদকবিরোধী এক সভায় একই ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের মাছুম ভূঁইয়া ও হাবিবুর রহমান পিয়া মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় উঠতি বয়সী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ যুবকেরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। মাদকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আল মুজাহিদ মল্লিক মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেন। তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সভা করে মানুষের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মো. সুলতান মিয়া মা, চাচি, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আল মুজাহিদ মল্লিকের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। এ সময় তিনি ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামপুর ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি আলমগীর হোসেন, জামপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ, জামপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি রোকন ভূঁইয়া এবং সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিম।
মো. সুলতান মিয়া বলেন, মাদক ব্যবসা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মানুষ এটিকে ভালোভাবে দেখে না। তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে তিনি আর কখনো এ পথে ফিরবেন না। বিএনপি নেতা আল মুজাহিদ মল্লিক তাকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের চিহ্নিত করে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুচলেকা দিয়ে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার শর্তে সুলতানকে কর্মসংস্থানের জন্য একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়া হবে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে অটোরিকশাটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগেও তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুজন মাদক ব্যবসা ছেড়েছেন।