
দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা তাদের জমা অর্থ সুদসহ ফেরত পাবেন বলে জাতীয় সংসদে আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমানতের অর্থ থেকে কোনো অংশ কেটে রাখার বা ‘হেয়ারকাট’ করার পরিকল্পনা নেই। তবে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার সমন্বিত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। এ কারণে আমানতকারীদের অর্থ ও সুদ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সব আমানত পরিশোধ সম্ভব নয়। তবে সরকার আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের আমানত সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
ব্যাংকিং সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক আমানতকারী চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন ও অন্যান্য জরুরি কাজে অর্থ তুলতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে ‘ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় আর্থিকভাবে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব আমানতকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে বীমাকৃত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আগে এ সুবিধার বাইরে থাকা কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদেরও আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় বিশেষ ফরেনসিক নিরীক্ষা চলছে। নিরীক্ষা শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আত্মসাৎ করা সম্পদ উদ্ধার করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠানও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।