
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আমদানি করা কম্পোজিট এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের ওপর নতুন করে মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বাজারে বিদেশি কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে উপস্থাপিত বাজেটে বলা হয়েছে, আমদানি পর্যায়ে কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হবে। এর ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার সাধারণত ফাইবার ও উন্নত কম্পোজিট উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। প্রচলিত লৌহজাত সিলিন্ডারের তুলনায় এগুলো তুলনামূলক হালকা, মরিচা প্রতিরোধী এবং নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে এ ধরনের সিলিন্ডারের ব্যবহার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি পর্যায়ে নতুন ভ্যাট আরোপের ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে। ফলে বাজারে বিক্রি হওয়া কম্পোজিট সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে মূল্য কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে ভ্যাটের হার এবং আমদানিকারকদের ব্যয় কাঠামোর ওপর।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছে সরকার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। বাজেটটি এখন সংসদীয় আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবে।