
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অজিদের ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এই প্রথম ওয়ানডেতে সিরিজ জয় করল লাল-সবুজের দল। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য ৫ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় বাংলাদেশ।
মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের তোপে পড়ে শুরুতেই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। ইনিংসের তৃতীয় বলেই তাসকিনের ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হন ওপেনার ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান জোড়া আঘাত হানেন। তার বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন কুপার কোলোনি ও ম্যাট রেনশো।
দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ৩টি উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রান তোলার আগেই প্রথম ৩টি উইকেট হারানোর লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখাল অস্ট্রেলিয়া।
মাত্র ২৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে অজিরা। মোস্তাফিজের অফ স্টাম্পের বাইরের শর্টপিচ ডেলিভারি স্কয়ার কাট করতে গিয়ে শান্তর হাতে ক্যাচ দেন ১৩ রান করা অ্যালেক্স ক্যারি। এরপর মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নেন তানভীর ইসলাম। ফলে ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
ধসে পড়া অজি ইনিংসকে টেনে তোলেন মার্নাস লাবুশেন ও জাভিয়ের বার্টলেট। সপ্তম উইকেটে তারা গড়েন শতরানের এক মূল্যবান জুটি। অবশেষে তাসকিন আহমেদ এই প্রতিরোধ ভাঙেন। ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন এই পেসার।
এর কিছুক্ষণ পরই মিরপুরের আকাশে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১৮৭ রান। লাবুশেন ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সেখানেই শেষ করতে হয়। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর খেলা পুনরায় শুরু হলে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।
রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। গুড লেন্থে পড়া বলে সোজা ড্রাইভ খেলতে গিয়ে বোলার জাভিয়ের বার্টলেটের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম।
তবে সেই প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার। এই দুই ব্যাটার মিলে গড়ে তোলেন ৮৬ রানের চমৎকার এক জুটি। তবে উইকেটে থিতু হয়েও রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৪২ রানে সৌম্য আউট হলে এই জুটিটি ভেঙে যায়।
দলীয় ৮৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি সহ-অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। দলীয় ৯৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২ হাজার রান ছোঁয়ার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন শান্ত। দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে এই কীর্তি গড়লেন তিনি, যা যৌথভাবে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ২ হাজার রানের রেকর্ড।
দারুণ খেলতে থাকা লিটন আজ আরও একবার মিরপুরের ঘূর্ণি ও বাউন্সের ধাঁধায় আটকে যান। ক্যামেরন গ্রিনের এক আচমকা বাউন্সারে গ্লাভসে বল লাগিয়ে উইকেটরক্ষক জশ ইঙ্গলিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২১ রানে বিদায় নেন এই ব্যাটার।
ছয়ে নামা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের শুরুটা ছিল বেশ আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী। অজি স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার ওপর চড়াও হয়ে প্রথম বলেই ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলেন এবং তিনটি চমৎকার বাউন্ডারি হাঁকান। তবে অ্যাডাম জাম্পার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফিরেন ১৫ রান করা মোসাদ্দেক হোসেনও। এর ফলে মাত্র ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আচমকা কিছুটা ব্যাকফুটে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
এরপর দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল তখন ৫৪ বলে মাত্র ২৯ রান। তাওহিদ হৃদয় ৪০ এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।