
সুন্দরবন-সংলগ্ন মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় নিখোঁজ এক যুবকের সন্ধান দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় কোস্টগার্ড সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধান চেয়ে তাঁর স্বজন ও গ্রামবাসীরা জয়মনির ঘোল এলাকায় মানববন্ধন করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধদের একটি অংশ সেখানে থাকা কোস্টগার্ডের হারবারিয়া চেকপোস্ট ও স্টেশনে হামলা চালায়। এ সময় স্পিডবোট, পন্টুন, অফিস ও বিভিন্ন সরকারি মালামাল ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হামলার সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালানো হয় এবং পন্টুনেও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড কয়েক রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ নিক্ষেপ করে। এতে প্রাণঘাতী গুলি না থাকলেও শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পরে অতিরিক্ত কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী আহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আকবর হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। স্থানীয়দের কাছ থেকে কোস্টগার্ডের ওপর এলাকাবাসীর হামলা-ভাঙচুরের বিষয়টি জানতে পেরেছি।’
ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাতের পর ঘটনাস্থলে যাই। তখন পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত ছিল। আমি উত্তেজিত গ্রামবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি।’
মোংলা থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, কোস্টগার্ড ও র্যাব মোতায়েন আছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদরদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে এবং দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্টগার্ড দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় টহল ও অভিযান চালিয়ে আসছে। জয়মনির ঘোলকে বনদস্যুদের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে স্টেশন স্থাপনের ফলে তাদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে গেছে।
কোস্টগার্ডের দাবি, এ কারণে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীরা তাদের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না। প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ডের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখ (৩২) গত ১০ এপ্রিল নিখোঁজ হন। তাঁর স্বজনদের দাবি, কোস্টগার্ড পরিচয়ে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। কোস্টগার্ড অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।