
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বড় ধরনের পতন দেখেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুর দর ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার তাৎক্ষণিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ভবিষ্যৎ চুক্তির দরও ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২২৮ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে ঝুঁকি নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় বলে জানানো হয়। পরে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার দাবি করে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে তেলের বাজারে প্রায় ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। রূপার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ, প্লাটিনামের দাম ৩ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, স্বর্ণের দর আরও কমে যদি ৪ হাজার ১০০ ডলারের নিচে নামে, তাহলে বছরের শেষ দিকে তা ৩ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।