
আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা এবং কর বৈষম্য দূরসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন শ্রমঘন শিল্প হিসেবে বিড়ি খাত দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এ শিল্প এখন চরম সংকটে পড়েছে। অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা দিলেও বিড়ি শ্রমিকরা ভাতা নয়, কাজের সুযোগ চান। তাই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে শুল্ক বৃদ্ধি না করার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য সপ্তাহে ছয় দিন কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমানে বিড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ, যেখানে সিগারেটের ক্ষেত্রে তা ৫ শতাংশ। একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য দূর করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো দেশের তামাক বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করছে। তাদের দাবি, নিম্নস্তরের সিগারেট বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব কোম্পানির দখলে রয়েছে। দেশীয় শ্রমঘন বিড়ি শিল্প রক্ষায় নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া নকল বিড়ির বিস্তারকে শিল্পটির জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিকরা প্রস্তাবিত বাজেটে বিড়ির শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনারও প্রতিবাদ জানান।