
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার চাপ থেকে আপাতত মুক্তি মিলছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর ই-ভ্যাট ইউনিটের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্চ মাসের অনলাইন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের ভ্যাট রিটার্ন ও কর পরিশোধ করতে হয়। তবে এবার কারিগরি সমস্যা ও সরকারি ছুটির কারণে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত সময় পেয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
ই-ভ্যাট ইউনিটের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটি এবং একই সময়ে ই-ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলায় অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং এসব কারিগরি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মার্চ মাসের রিটার্ন জমার সময়সীমা ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা ১ (ক)-এর ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে যে জরিমানার বিধান রয়েছে, তা থেকে ব্যবসায়ীরা অব্যাহতি পাবেন।
সাধারণ নিয়মে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং বকেয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিস্টেমগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো তথ্য আপলোড করতে না পারার বিষয়টি রাজস্ব বোর্ডকে জানিয়েছেন।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। পাশাপাশি অনলাইনে রিটার্ন জমা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে কারিগরি দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বৈশাখী ছুটি ও সিস্টেম উন্নয়নজনিত সমস্যার কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সময়সীমা বাড়ানোর ফলে তা দূর হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, নতুন সময়সীমার মধ্যে দেশের সব নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্ন সফলভাবে জমা দিতে পারবে।
এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক জরিমানার চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও পূরণে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত নতুন সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।