
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের উদ্বেগের মধ্যে দেশে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছেছে। দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং মজুত স্বাভাবিক রাখতে এই আমদানি করা হয়েছে।
ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে এই তেল এসে পৌঁছায়। গত সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আসা শুরু হয়ে বুধবার (১১ মার্চ) তা সম্পন্ন হয়। পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর তত্ত্বাবধায়ক মো. আহসান হাবিব চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার জরুরিভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) এবং আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের (এনআরএল) কাছে চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা।
এদিকে, পার্বতীপুর তেল ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ও জ্বালানি তেল পরিবেশক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. রজব আলী সরকার জানান, ডিপো থেকে প্রতি পেট্রোল পাম্পকে ১ লাখ ৩ হাজার লিটার পেট্রোল এবং ২ লাখ ২৮ লিটার ডিজেল দেয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, 'বিশেষ কিছু পাম্পকে বেশি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।' এর ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোকে ক্রেতাদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। অনেক ট্যাংক-লরি তিন দিন বসে থাকার পর তেল পাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেশনিংয়ের বিষয়ে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর তত্ত্বাবধায়ক জানান, প্রতিদিন পেট্রোল ও অকটেন ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারের পরিবর্তে ১ লাখ ৫ হাজার লিটার করে দেয়া হচ্ছে। মূলত ডিজেল সরবরাহ কম থাকায় রেশনিং হারে পেট্রোল পাম্পগুলোকে তা দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। ভারতের শিলিগুড়ির নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি পঞ্চগড় ও নীলফামারী হয়ে পার্বতীপুরে এসে মিশেছে।
ডিপো কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে।