
দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে হঠাৎ করেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অফিস সময় শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে ই–মেইলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার আগেই তথ্য পাঠাতে বলা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
ব্যাংকগুলোকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষি ও পল্লি খাতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণ ও বিনিয়োগের মোট মূলধন, সুদ বা মুনাফা এবং বকেয়া স্থিতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ই–মেইল ঠিকানায় এসব তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে হঠাৎ করে তথ্য চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকেই এই তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা এসেছে। তবে কী উদ্দেশ্যে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর চেয়ারপারসন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যায়ে কিংবা পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। সাধারণত এ ধরনের তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নর এবং প্রয়োজনে গভর্নর পর্যন্ত নোট উপস্থাপনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সে ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চার হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত পুরো অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম ছয় মাসে অর্জন হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ বিতরণের আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।