
অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেলেও পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে না বলে সতর্ক করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের রাজস্ব আদায় আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বার্ষিক লক্ষ্যে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধ ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বাধীন পর্যালোচনা প্রকাশ করা হয়। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
এই পর্যালোচনায় সরকারি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, বেসরকারি বিনিয়োগসহ মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিশ্লেষণ করা হয়। সিপিডির মতে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে এসব খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সংস্থাটি জানায়, রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ উভয় ক্ষেত্রেই বাড়তি মনোযোগ জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকার কিছু সংস্কার উদ্যোগ শুরু করলেও সেগুলো বাস্তবায়ন ও সম্পন্ন করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপরই পড়বে।
সিপিডির তথ্যে দেখা যায়, কর আদায়ে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যেখানে আয়কর ও ভ্যাট খাতের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তবুও সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে রাজস্ব আদায়ে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাড়তি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বেশ কঠিন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।