
মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ড ও ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জসহ তিনজনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। একই মামলায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া তিনজন হলেন স্টোর ইনচার্জ ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. জিয়াদ আলী বিশ্বাস, স্টোর কিপার (মাস্টার রোল) হুমায়ুন কবির খান এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর শহিদ হোসাইন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রাজীব হোসেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কর্মী আসমাউল ইসলাম স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চাইলে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে পৃথক আদেশ দেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ মে মিরপুর-২ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ওই দিন অজ্ঞাত পাঁচজন ব্যক্তি তালা ভেঙে স্টোররুমে প্রবেশ করে।
অগ্নিকাণ্ডে স্টোরে সংরক্ষিত ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ২৯টি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন।