
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ৯ এপ্রিল। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন শহিদ আবু সাঈদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে আহত অবস্থায় তিনি শহিদ হন। আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। রক্তক্ষয়ী সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
ঘটনার বিচার চেয়ে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি শহিদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। পরে গত বছরের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনটি দাখিলের পর ৩০ জুন তা আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
মামলার পলাতক আসামিদের পক্ষে গত বছরের ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ মামলায় প্রথম সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। পরে গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়ে ২৫ জানুয়ারি তা শেষ হয়। এরপর আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।