
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অবশেষে আনুষ্ঠানিক বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতা। আজ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পাশাপাশি সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আইন অনুযায়ী, আজ প্রসিকিউশন তাদের ওপেনিং স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের ধাপে প্রবেশ করবে। তবে এ মামলার সাত আসামির কেউই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হননি। তারা পলাতক থাকায় অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
পলাতকদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এর আগে ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন এবং সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারির দিন নির্ধারণ করেন। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। রাষ্ট্রের খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহানও আদালতে ছিলেন।
১৮ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। এর আগে ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ আমলে নেন আদালত। একই সঙ্গে সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই ও আগস্টে আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা দেন, প্ররোচনামূলক ও উসকানিমূলক বক্তব্য রাখেন এবং নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান। বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মতো কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।